২৬ অগ্রহায়ন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ সোমবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
Home » এক্সক্লুসিভ » একজন আকবর হোসেন-চলে গেলেন না ফেরার দেশে

একজন আকবর হোসেন-চলে গেলেন না ফেরার দেশে

কামরুজ্জামান সোহেল #
গত কয়েক দিন ধরে কিছুটা অসুস্থ্য বোধ করছি। মঙ্গলবার শরীরটা খুবই খারাপ ছিল। সারাদিন বাসায় এক প্রকার শুয়েই কাটিয়েছি। মনটাও যেন খুব খারাপ ছিল, নানা চিন্তা এসে ভর করেছিল মনে। রাতে খুব একটা ঘুম হয়নি। তবে, ঘুমের মধ্যে খুব, খুবই একটা খারাপ স্বপ্ন দেখলাম। স্বপ্নটা দেখার পর ঘুম ভেঙে গেল। আর ঘুমোতে পারিনি। পাশে শোয়া ছেলেটাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলাম অনেকক্ষন। স্বপ্নটা দেখার পর কিছুটা আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলাম। সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যাটা দিতে চাচ্ছিনা। এটুকু বলতে পারি-স্বপ্নটা ভালো ছিল না। অজানা আশংকা মনের মধ্যে ভর করেছিল, কি খারাপ সংবাদ পাই। এমন অজানা ভয় সারাটি দিন মনের মধ্যে বাসা বেঁধে ছিল। কাউকে কিছুই বলতে পারিনি। সকালে বাসা থেকে বের হলেও কোন অনুষ্ঠানে যাইনি। দুপুরের দিকে বাসায় ফিরে মনটা খারাপ ছিল। ছেলেটাকে নিয়ে একটু ঘুরতে বেড়িয়েছিলাম। সন্ধ্যার আগেই বাসায় ফিরে এসেছি। বাসায় এসে শুয়েই ছিলাম। মাথার মধ্যে হাজারো চিন্তা এসে বার বার উঁকি দিচ্ছিল। কোন কাজেই মন বসছিল না। রাত ১০টা ১৫ মিনিট এমন সময় একটি অজানা নাম্বার থেকে ফোন এলো। কাকা, আমি মানিক.. বাবা আর নেই.. হঠাৎ এমন একটি সংবাদ শুনে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম। শেখ আকবর হোসেন, একাধারে বড় ভাই, বন্ধুও ছিল। বয়সেও বিস্তর ফারাক থাকলেও দু’জনে মিশেছি বন্ধুর মতো। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা প্রতিকুলতার মধ্যে পড়েছি। আকবর ভাইয়ের বুদ্ধিদ্বিপ্ততায় পার পেয়েছি। সংগঠন করতে গিয়ে আকবর ভাইকে সব সময় কাছে পেয়েছি। কতদিন আকবর ভাই আর আমি দুপুরে এক সাথে একপ্লেটে খাবার খেয়েছি তার গুনে শেষ করা যাবেনা। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কতদিন দু’জনে দুপুরে না খেয়েই কাটিয়ে দিয়েছি। সব সময় আমাকে তার ছায়া দিয়ে আগলে রাখতেন। বহুদিন আগের কথা। তখন আমি মানবজমিন পত্রিকায় কাজ করি। জেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক। আকবর ভাইকে তখন পেয়েছি সাংবাদিক হিসাবে। যদিও তিনি আগেও পত্রিকায় কাজ করতেন। মাঝে কি কারনে যেন বাদ দিয়েছিলেন। সেসময়ে চকবাজারে ছোট্র একটি ব্যবসা করতেন। শ্বাস কষ্টের কারনে ব্যবসা তেমন একটা করতে পারছিলেন না। শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই ওয়াহিদ মিল্টন ও প্রয়াত আরিফ ইসলাম তাকে সেই ব্যবসা করতে না দিয়ে সাংবাদিকতায় ফিরিয়ে আনেন। কয়েকদিন পর ওয়াহিদ মিল্টন আকবর ভাইকে নিয়ে যশোর যান। যশোর থেকে প্রকাশিত সদ্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামের দৈনিক ‘লোকসমাজ’ পত্রিকার প্রতিনিধি বানিয়ে দিয়েছিলেন। সেই থেকে পুরোদমে সাংবাদিকতার সাথেই লেগে ছিলেন। লোক হিসাবে ছিলেন এককথায় মজাদার। সকাল হলেই চলে আসতেন থানার মোড়ে। তারপর চলতো দুজনের নানা বিষয়ে আলাপ-আলোচনা। আকবর ভাই অনেক সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। ফলে মাসের বেশকিছু দিন জেলার বিভিন্ন স্থানে যেতে হতো তাকে। তখন নিজেকে অসহায় বোধ করতাম। গাঁটের পয়সা খরচ করে সাংবাদিকতা করতেন। এজন্য বাসা থেকে তাকে নানা রকম কথাও শুনতে হতো। খুব একটা স্বচ্ছল ছিলেন না। তবে, হাতে টাকা থাকলে সবাইকে না খাইয়ে ছাড়তেন না। কতদিন বলেছি, ভাই- বাসার জন্য বাজার-সদাই করে নিয়ে যান। বলেছেন, তোমার ‘কাকী’ (আকবর ভাইকে ভাই বললেও তার স্ত্রী ‘চাচী’ বলতাম) সরকারী চাকুরী করে যে বেতন পায় তা দিয়ে সংসার চলে যায়। আমি যা পাই তা আমিই খরচ করবো। আকবর ভাইয়ের সাথে মন্টু চাচার (ইউসুফ রেজা মন্টু) খুব সখ্যতা ছিল। মাঝে মধ্যেই সখ্যতা চলে যেত হাতাহাতির পর্যায়ে। দুইজনে গলায় গলায় ভাব থাকলেও এমন কোন দিন নেই যে দুইজনের মাঝে খিস্তিখেউর চলতো না। আমি অনেক সময় শুনেও না শোনার ভান করতাম। আবার দেখতাম দুজনে একসাথে বসে চা খাচ্ছে। দুজনে একসাথে গল্প গুজব করছে। এভাবেই চলছিল আমাদের সাংবাদিকতার সোনালী দিনগুলো। জেলা প্রেসক্লাব থেকে প্রেসক্লাব তারপর রিপোর্টার্স ইউনিটি। সব সংগঠন গুলোতে আকবর ভাই আর আমি একসাথে থেকেই কাজ করেছি। প্রেসক্লাবের নানা রাজনীতির মধ্যেও আকবর ভাই আমাকে ছেড়ে যাননি কখনো। অনেক সময় কারো প্ররোচরনায় কিছুটা দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল দুজনের মাঝে। আবার একসাথে হয়েছি সকল ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে। গত কয়েক বছর ধরে আকবর ভাই বেশ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। মাঝে মধ্যেই বলতেন, আমি অনেক দিন বাঁচতে চাই। আমি বলতাম, আমি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন অনেকদিন। (চলবে..)

আরও পড়ুন...

ফরিদপুর-২ আসনে সংসদ উপনেতার পক্ষে মাঠে নামলেন জামাল মিয়া

সুমন ইসলাম # ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা-কৃষ্ণপুর) আসনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের তথ্য …

কাজী সিরাজুল ইসলাম অসুস্থ্য হয়ে হাসাপাতালে ভর্তি, দোয়া কামনা

কামরুজ্জামান সোহেল # আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ …