৬ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার ২২ অগাস্ট ২০১৯
Home » সারাদেশ » ১০১ টাকা হাদিয়ায় হাপানী বিদায়

১০১ টাকা হাদিয়ায় হাপানী বিদায়

মোঃ সোহেল রানা, মানিকগঞ্জ #
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের নীলগ্রামের মরহুম কবিরাজ মজিবর রহমানের পুত্র কবিরাজ শহর আলী ১০১ টাকা হাদিয়া নিয়ে হাপানীতে আক্রান্ত রোগীদের একটুকরো মদনা কলা খাওয়ানোর মাধ্যমে দিচ্ছেন হাপানীকে চিরবিদায়ের চিকিৎসা। কবিরাজ শহর আলীর বিশ্বাস তার বাবা মরহুম কবিরাজ মজিবর রহমান ভারতের আজমীর শরীফের খাদেম থাকাকালীন সময়ে তিনি অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হন এবং দেশে এসে হাপানীতে আক্রান্ত রোগীদের এক টুকরো মদনা কলা খাইয়ে চিকিৎসা দেওয়ায় অনেক রোগী ভালো হয়ে যান। কবিরাজ শহর আলীর দাবি, তার বাবা ইন্তেকালের পুর্ব মুহুর্তে মরহুম কবিরাজ মজিবর রহমান সমস্ত কিছু ন্যাস্ত করেন শহর আলীর উপরে এবং তার বাবা অনুরোধ করেন তাকে হাপানীর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে। বাবার অনুরোধেই তিনি কবিরাজী পেশায় এসেছেন এবং এ চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জানা যায়, প্রতি বছর কার্তিক মাসের ভরা আমাবশ্যার রাতে পরের দিন অর্থাৎ সনাতন ধর্মালম্বীদের কালী পুজোর পরের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খাওয়ানো হাপানী রোগের ওষুধ। আর বছরের এ দিনটেই শুধুমাত্র হাপানী রোগের ওষুধ খাওয়ান শহর আলী। এছাড়া আরো জানা যায় শুধু মানিকগঞ্জ থেকেই নয় আশে পাশের অনেক জেলা থেকেই হাজার হাজার মানুষ ভীড় জমান এ দিনটিতে তার কাছ থেকে হাপানী রোগের ওষুধ খাওয়ার জন্য।  জেলার ঘিওর উপজেলা থেকে হাপানী চিকিৎসা নিতে আসা কল্পনারানী জানান, অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি কিছুতেই রোগ থেকে মুক্তি মিলছেনা তাই এখানে এসে মদনা কলা দিয়ে ওষুধ খাওয়ালো কবিরাজ আমাকে। কবিরাজ বলেছেন তিনবার খেলে যেকোন একবারে রোগ থেকে মুক্তি মিলবে। এখন বিশ্বাস নিয়ে এসেছি ভগবান কি করবে জানিনা। হরিরামপুর উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সুফিয়া খাতুন জানান, মদনা কলার এক টুকরো খাওয়ানো হয়েছে আমাকে হাপানী থেকে মুক্তি পেতে। কবিরাজ আমার থেকে ১০১ টাকা হাদিয়া নিয়েছেন এ ওষুধের জন্য। পরের বছর আবার আসতে বলেছেন আমাকে। আর এ হাদিয়াটা কবিরাজ আমার থেকে চেয়েই নিয়েছেন।

আর কবিরাজের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, তার বাবার দেওয়া আদেশে বড় ভাইয়ের এমন মহৎ কর্মে তিনি গর্বিত। কার্তিক মাসের ভরা আমাবস্যার পরের দিন খাওয়ানো হয় এ ওষুধ। আর এ দিনটিকে ঘিরে তাদের এখানে পাচদিন ব্যাপী মেলা চলছে আরো চলছে গানবাজনা। তবে এ ওষুধ খেলে কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়। হাসের মাংস ও ডিম, গরুর মাংস, মিষ্টি শজ সহ এলার্জি জাতীয় খাবার পরিহার করলেই কেবল এ ওষুধের গুনে মুক্তি মিলবে হাপানী রোগ থেকে। আর এ ওষুধ পর পর তিন বছর খেতে হয়। হাদিয়া স্বরুপ প্রথম বছর ১০১ টাকা, দ্বিতীয় বছর ৫১ টাকা এবং তৃতীয় বছর ২১ টাকা দিতে হয় একজন রোগীকে। তবে শহর আলীর এ চিকিৎসার বিষয়ে স্থানীয় কোন বাসিন্দাই মুখ খোলেন। নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক এক বাসিন্দা জানিয়েছেন মদনা কলায় যদি হাপানী সারতো তাহলে এ দেশে চিকিৎসক ডাক্তারের কি কোন প্রয়োজন পড়তো?

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, কবিরাজ মরহুম মজিবর রহমান নিজেই হাপানীতে আক্রান্ত রোগে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরন করেছেন। উনি যদি এত লোকের হাপানীর চিকিৎসা দিতে পারেন। তাহলে নিজেই কেন হাপানী আক্রান্ত ছিলেন এবং নিজের রোগ সাড়াতে পারেননি তিনি। শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাক্তার মোঃ শাহ আলমগীর জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞান ঝাড় ফুকে নয় বাস্তবে বিশ্বাসী। আর যারা ওখানে হাপানী চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের ভেবে চিন্তে সেখানে যাওয়া উচিত যে প্রতারনার স্বীকার হচ্ছে কিনা তারা? আর তাছাড়া হাপানী খাদ্য নিয়ম ও ওষুধ সেবনে নিয়ন্ত্রনে রাখা যায় তবে চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি নির্মুল করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন...

ঝিনাইদহে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী নিহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি # ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর গুলাগুলিতে ডাবলু মন্ডল (৩২) নামের এক মাদক …

মানিকগঞ্জে আজাদ হত্যাকারী, চালক ও হেলপারের ফাসির দাবিতে মানববন্ধন

মোঃ সোহেল রানা (মানিকগঞ্জ) # মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় সাকুরা পরিবহনের চেকার আজাদ তালুকদারের হত্যাকারী চালক ও …