৪ অগ্রহায়ন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮
Home » রাজনীতি » শরীয়তপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগে বিভাজন, বিএনপিতে অপু, তাহমিনা, আসলাম

শরীয়তপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগে বিভাজন, বিএনপিতে অপু, তাহমিনা, আসলাম

ফরিদপুর কন্ঠ ডেক্স #  ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা, ডামুড্যা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা এবং গোসাইরহাট উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-৩ আসন। আওয়ামী লীগের দুর্গ এ আসনটি দেশজুড়ে পরিচিত রাজ্জাকের আসন হিসাবে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবদুর রাজ্জাক মারা যান ২০১১ সালের ২৩শে ডিসেম্বর। তারপর এ আসনের হাল ধরেন রাজ্জাকপুত্র নাহিম রাজ্জাক। বর্তমানে তিনি এ আসনের এমপি। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি নিশ্চিত এ আসনে নৌকার টিকিটে লড়ছেন। তবে মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগে এখন স্পষ্ট বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। এ আসনে ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭০৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন।
১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবেদুর রেজা খান, ’৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে মুসলিম লীগের ইব্রাহীম খলিল ওরফে নওয়াব বালা, ’৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পাটির ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আলম, ’৮৮ সালে ৪র্থ নির্বাচনে জাপার এমএ রেজা, ’৯১ সালে ৫ম সংসদ নির্বাচনে আবদুর রাজ্জাক, ’৯৬ সালে ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরণ, ’৯৬ সালের ১২ই জুন ৭ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, ২০০১ সালে ৮ম সংসদ নির্বাচনে আবারও আবদুর রাজ্জাক, ২০০৮ সালে ৯ম নির্বাচনে ফের আবদুর রাজ্জাক নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ২৩শে ডিসেম্বর আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যুর পর ২০১২ সালের মার্চে উপ-নির্বাচনে রাজ্জাক তনয় নাহিম রাজ্জাক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও নাহিম রাজ্জাক আওয়ামী লীগের টিকিটে দ্বিতীয় বারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এই আসনের এমপি আবদুর রাজ্জাককে পানি সম্পদমন্ত্রী করা হয়। ক্ষমতার ৫ বছরে তিনি তার নির্বাচনী এলাকাসহ গোটা জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেন। আবদুর রাজ্জাকের উন্নয়নের ছোঁয়ায় শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক অবস্থান সুসংগঠিত ও মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নাহিম রাজ্জাক ছাড়াও আওয়ামী লীগের আরো ২ জন প্রভাবশালী নেতার নাম শোনা যাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে। তারা হলেন, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বাহাদুর বেপারী।
নাহিম রাজ্জাক ভারতের আজমীর এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনে লেখাপড়া করেন। লন্ডন থেকে ব্যবসায় শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে প্রথমে চাকরি করেন। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আবদুর রাজ্জাক গুরুতর আহত হলে চাকরি ছেড়ে নাহিম তার পিতার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় কাজ করার পাশাপাশি ঢাকায় ব্যবসা শুরু করেন।
সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তবে, সমপ্রতি তার নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগে কিছু দৃশ্যমান বিভাজন দেখা দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী নাহিম রাজ্জাককে দোষারোপ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, দুর্দিনের অনেক ত্যাগী, পরীক্ষিত ও পুরনো নেতাকর্মীরা এমপির কাছে ভিড়তে পারছেন না। এ বিষয়ে নাহিম রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি সঠিক নয়। আমি সংসদ সদস্য হওয়ার পর আমার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি।
আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী অনল কুমার দে ছাত্রলীগ ও জেলা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের একবার সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুইবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। নির্বাচনে তাকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে বলে তার বিশ্বাস।
আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী বাহাদুর বেপারী বলেন, আমি ডামুড্যা মুসলিম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করার পর ঢাকার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগে সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হই। ঢাবির ছাত্রাবস্থায় ১৯৮৬ সালে প্রথম শহিদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদকের পদ দিয়ে ছাত্রলীগে অভিষেক হয়। ১৯৯২ সালে ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সদস্য, ’৯৪ সালে ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক, ৯৬ সালে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হই। ফার্মাসিতে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর তিনি বিবিএ এবং এমবিএ কোর্স সমাপ্ত করেন। দুইবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হন বাহাদুর বেপারী। আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপকভাবে গণসংযোগ শুরু করছেন।
এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) সাবেক ছাত্রদল নেতা মিয়া নূরউদ্দিন অপু, প্রয়াত সংসদ সদস্য কেএম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেবের সহধর্মিণী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট তাহমিনা খান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাঈদ আহমেদ আসলাম।
অ্যাডভোকেট তাহমিনা খানমের স্বামী হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ ১৯৯১ সালে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালে একই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে আওরঙ্গ খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগদান করেন এবং ২০০৮ সালে শরীয়তপুর-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আবদুর রাজ্জাকের বিপরীতে নির্বাচন করে পরাজিত হন। ২০১৩ সালে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ মারা গেলে তার স্ত্রী তাহমিনাকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়। তাহমিনা আওরঙ্গ মনে করেন, তার স্বামীর আসনে তাকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে।
সাঈদ আহমেদ আসলাম ডামুড্যার ঐতিহ্যবাহী সেলিম পরিবারের সন্তান। একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে শরীয়তপুর-৩ নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করে আসছেন। এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন। তার ঘনিষ্ঠজনরা মনে করেন, সাঈদ আহমেদ আসলামকে এই আসনে মনোনয়ন দেয়া হলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে। গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুরের সন্তান নূর উদ্দিন অপু। বিএনপির একটি অংশসহ নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক সচেতন লোকেরা মনে করছেন অপুর শরীয়তপুর-৩ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, আগামীদিনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অপুর হাত ধরেই এই অঞ্চল তথা গোটা শরীয়তপুরের উন্নয়ন সম্ভব হবে। জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী মো. আবদুল হান্নান, এই এলাকাকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত এবং চাঁদাবাজমুক্ত উপজেলা গড়তে চান।

আরও পড়ুন...

ফরিদপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগে ৭ বিএনপিতে ২

আবু নাসের হুসাইন # একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২, (সালথা-নগরকান্দা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ …

নয়াপল্টেন পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। বুধবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে এই …