অপরাধ নগরকান্দা

হত্যার হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ধর্ষনের শিকার স্কুলছাত্রীর পরিবার

ফরিদপুরে প্রাণনাশের হুমকিতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ধর্ষনের শিকার এক স্কুলছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ আসামীদের আটক না করায় অসহায় পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মামলা তুলে না নিলে পরিনতি ভয়াবহ বলে বলেও হুমকি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন নগরকান্দা উপজেলার বাসিন্দা ও ধর্ষনের শিকার হওয়া ওই ছাত্রীর মা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক খলিলুর রহমান ও ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়–য়া ধর্ষনের শিকার হওয়া ওই ছাত্রী। লিখিত বক্তব্যে ছাত্রীটির মা অভিযোগ করে বলেন, গত ৪ মার্চ বিকেলে আমার মেয়ে তার নানাবাড়ী শাকপালদিয়া যাচ্ছিল। পথিমধ্যে স্থানীয় সজিব, ছরোয়ার, সাইফুল, দেলোয়ার ও রাসেদ আমার মেয়েকে জোরপূর্বক একটি মাহিন্দ্র গাড়ীতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার চোখ, হাত-পা বেঁধে ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখুন্ডা এলাকায় একটি বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে জোরপূর্বক আমার মেয়েকে ধর্ষন করে সজিব। পরদিন সকালে আমার মেয়েকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মাইক্রোবসাযোগে বেনাপোলে নিয়ে যায় সজিব ও তার সহযোগীরা। বর্ডার পার হবার সময় বেনাপোল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সজিব। বেনাপোল থানা থেকে আটকের বিষয়টি নগরকান্দা থানা পুলিশকে জানানো হলে নগরকান্দা থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর ৭ মার্চ আমি নিজে বাদী হয়ে সজিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে নগরকান্দা থানায় ধর্ষন ও পাচার আইনে মামলা করি। ওই মামলায় সজিব আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে যায়। কিন্তু বাকি ৪ আসামী থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এদিকে, আসামীদের আটক না করায় তারা বিভিন্ন ভাবে আমাকে হুমকি দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে ভয়াবহ পরিনতি ভোগ করতে হবে বলে তারা হুমকি দিয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকেই মেয়েসহ আমরা এলাকা ছেড়ে ফরিদপুর শহরে এক আত্বীয়ের বাসায় রয়েছি। আসামীদের ভয়ে আমরা এলাকায় যেতে পারছিনা। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের মদদে আসামীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা যে কোন সময় আমার মেয়েসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ক্ষতি করতে পারে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী অফিসার নগরকান্দা থানা পুলিশের এসআই রবিউল ইসলাম জানান, আসামীরা এলাকায় না থাকায় তাদের আটক করা যাচ্ছে না। এক আসামী ভারতে চলে গেছে বলে জানতে পেরেছি। আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *