ফরিদপুর সদর

সৎ মায়ের পরামর্শে পাষন্ড বাবার কান্ড !

কামরুজ্জামান সোহেল।
সৎ মায়ের পরামর্শে  সাত বছর বয়সী শিশু আসিফকে তার বাবা হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দি ইউনিয়নের গোপিনাথপুর প্রাইমারী স্কুল মাঠে ফেলে রেখে যান। বুধবার বিকেলে অসুস্থ্য অবস্থায় শিশু আসিফকে রামকান্তপুর ইউনিয়নের তেলি সালথা গ্রামের সুমন মাতুব্বর দেখতে পান। পরে আসিফের মুখে সব কথা শুনে তিনি তাকে বাড়ী নিয়ে যান। বর্তমানে শিশু আসিফ সালথা থানার ওসি আসিকুজ্জামানের তত্বাবধানেই রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে থানা পুলিশ শিশুটির বাবাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
শিশু আসিফ জানায়, তার বাবার নাম রেজাউল ও মায়ের নাম আসমা বেগম। তারা ঢাকার মিরপুরের ১২নং বালুর মাঠের পাশে থাকতেন। তার নানার বাড়ী রংপুর জেলায়। তার মা ৬ মাস আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পরে তার বাবা আরেকটি বিয়ে করেন। নতুন মা তাকে বেশ মারধোর করতো। খাবার না দিয়ে নির্যাতন করতো। বাবা বাইরে গেলে তার নতুন মা তাকে হাত-পা বেঁধে পেটাতো। সে কান্না করলে তাকে গলা টিপে ধরতো। বাবা বাড়ী ফিরলে তাকে সবকিছু বললে সে নতুন মাকে কিছুই বলতো না। আমাকে বকা দিতো। নতুন মায়ের কথা মতো আমাকে ঢাকা থেকে এখানে এনে হাত-পা চোখ বেঁধে ফেলে রেখে যায়।
শিশুটিকে কুড়িয়ে পাওয়া সুমন মাতুব্বর জানান, গোপিনাথপুর স্কুল মাঠে শিশুটিকে দেখতে পাই। সে তখন কান্না করছিল। তার কাছে গিয়ে সবকিছু জানতে পারি। পরে তাকে আমি আমার বাড়ীতে নিয়ে আসি। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে তাকে সুস্থ্য করে তুলি। শিশুটিকে উদ্ধারের পর সালথা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানাই। এরপর থানার ওসির কাছে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে আসিফকে হস্তান্তর করা হয়। সুমন মাতুব্বর জানান, সালথা থানার ওসি শিশুটির সব দায়িত্ব নিয়েছেন।
সালথা থানার ওসি মোঃ আসিকুজ্জামান বলেন, সুমন মাতুব্বরের মাধ্যমে শিশু আসিফকে থানায় আনা হয়। আসিফের মুখে সবকিছু শুনে আমি নিজেই তার দায়িত্ব নিয়েছি। আপাতত সে আমার কাছেই আছে। আমি তার থাকা খাওয়া সব সব ব্যবস্থা করেছি। শিশুটির অভিভাবকের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *