ফরিদপুর সদর

স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে নৃশংসভাবে হত্যা

সোহাগ জামান #
ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের বায়তুল আমান এলাকায় জামাইয়ের হাতে খুন হয়েছে স্ত্রী জিয়াসমিন আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধু। বুধবার সকালে হাত-পা বাঁধা ও গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় জিয়াসমিনের লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর মিলন ও তার ভাই-বোনেরা বাড়ী থেকে পালিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পশ্চিম আলীপুর এলাকার ইউনুস শেখের মেয়ে জিয়াসমিন আক্তারের বিয়ে হয় ৮ বছর আগে বায়তুল আমান এলাকার সিদ্দিক শেখের ছেলে মিলন শেখের। বিয়ের পর থেকেই মাঝে মধ্যেই মারধোর করতো। গত এক সপ্তাহ আগে মিলন মারধোরের একপর্যায়ে জিয়াসমিনকে হাত-পা বেঁধে রাখে। পরে প্রতিবেশীরা জিয়াসমিনকে উদ্ধার করে। মঙ্গলবার রাতে জিয়াসমিনকে বেদমভাবে প্রহার করে মিলন। প্রতিবেশীরা আসলে মিলন ঘর থেকে বের হয়ে যায়। রাত ১টার দিকে মিলন এক প্রতিবেশীকে ফোন করে জানায়, সে জিয়াসমিনকে হত্যা করেছে। এ ঘটনার পর পুলিশ বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে জিয়াসমিনের লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, জিয়াসমিনের দুই হাত-পা বাঁধা এবং গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দেয়া অবস্থায় খাটের সাথে বাঁধা ছিল। পুলিশের আশংকা মারধোরের এক পর্যায়ে হাত-পা বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একাজে মিলন একা করেছে বলে মনে হচ্ছেনা। তার সাথে আরো কেউ জড়িত থাকতে পারে। এ ঘটনার পর মিলনসহ তার ভাই, বোন বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়। নিহত জিয়াসমিনের মাহি (৬) ও বায়জিদ (৪) নামের দুটি সন্তান রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পরকীয়ার জের ধরে জিয়াসমিনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। মিলন এক নারীর সাথে পরকীয়ায় আসক্ত ছিল বলে জানান তারা।
জিয়াসমিনের বাবা ইউনুস শেখ জানান, বুধবার সকালে স্থানীয়রা খবর দিলে তিনি তার কয়েক আত্বীয়কে নিয়ে মিলনদের বাড়ীতে গিয়ে জিয়াসমিনের লাশ দেখতে পান। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে হাত-পা বেঁধে নৃসংশভাবে খুন করেছে মিলন ও তার ভাই-বোনেরা।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম নাসিম জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামীদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *