বোয়ালমারী

বোয়ালমারীতে সংঘর্ষে ২০ জন আহত, জেলা পরিষদের সদস্যসহ আটক-৭

খান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, বোয়ালমারী।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে সাবেক দুই ইউপি চেয়ারম্যানের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এসময় বাড়িঘর ভাংচুর হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক শেখর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদসহ দুই পক্ষের ৭ জনকে আটক করেছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। অপর পক্ষের নেতা শেখর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রইসুল ইসলাম পলাশকে আটক করতে পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালিয়েছে। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আনিচুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আবুল কালাম আজাদ আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরোধীতায় অবতীর্ণ হলে পলাশ আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে নির্বাচন করেন। নির্বাচনের পর থেকে আবুল কালাম আজাদ ও পলাশ গ্রুপের মধ্যে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত দুর্গাপুর গ্রামের আহমেদ শেখ (৫২), সেলিম শেখ (৪৫) ও শাহজাহান মিয়াকে (৫৫) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ওই গ্রামের ইলিয়াস শিকদার (৩৮), জামাল শেখ (৩৭), রফিক শেখকে (৩৮) ও ফরহাদ শেখকে (৪৮) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পলাশ গ্রুপের রব্বানী (৩৩), কামরুল খান (৩৮), মামুন শেখ (৩০), সোহরাব শেখ (৫৫) ও আবুল কালাম আজাদ গ্রুপের মহত্তাব শেখ (২৫), শহিদুল শেখকে (৩০) আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আবুল কালাম আজাদকে পৌর সদরের বাসা থেকে আটক করা হয়।
বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আমিনুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষ দুপুর পর্যন্ত অভিযোগ দেয়নি। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *