ফরিদপুর সদর রাজনীতি

ফরিদপুর জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসককে নিয়ে রাজনৈতিক চক্কর


বিশেষ প্রতিবেদক
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে একটি বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত মঞ্চ ভেঙ্গে দিয়েছেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক শামসুল হক ভোলামাস্টার। এ অভিযোগে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে ছোট খাটো নেতারা শামসুল হককে নিয়ে বিষদগার করেছেন।
শামসুল হক ভোলা মাস্টার ফরিদপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও উপদেষ্টা ছিলেন।
গত ২৬ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া এবং গণভোজের আয়োজন করে ফরিদপুর সদরের চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় চর মাধবদিয়া ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ভবন সংলগ্ন আঙ্গিনায়। গত ২৫ আগস্ট ওই মাঠের স্থায়ী মঞ্চে শামিয়ানা টানানোর জন্য বাঁশ পোতার সময় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি খন্দকার নজরুল ইসলামের সাখে শামসুল হকের বচসা ও এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। শামসুল হক ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিরসদস্য।
স্কুল কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ওই আঙ্গিনায় শোক সভার আয়োজন করার জন্য বিদ্যালয়ের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার আউয়াল হাসান। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় অনুষ্ঠানের অনুমতি না দিয়ে পাশের ওই বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন বড় একটি মাঠে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেন।
এ অনুমতি উপেক্ষা করে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ স্কুলের আঙ্গিনায় অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ নেওয়ায় শামসুল হকের সাথে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির বচসা ও হাতাহাতি হয়।
এ ঘটনানাকে ইস্যু করে শামসুল হক শোক দিবসের অনুষ্ঠানের মঞ্চ ভেঙ্গে দিয়েছেন, সভা আয়োজনে বাধা দিয়েছেন প্রচার করে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের কান ভারি করে ২৬ আগস্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনহীন মাঠে শোক দিবসের আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
ওইদিনের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শামীম হক। তিনি শামসুল হককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি একজন স্বঘোষিত ভাল উকিল। আপনি এ কাজ কীভাবে করেন? আপনি আসেন না ভাল কথা। আপনি সভাপতি প্রার্থী ছিলেন সেটাও ভাল কথা। কিন্তু সভাপতি হওয়ার পরই তো আমি আপনার বাসায় গিয়েছি, আপনাকে জড়িয়ে ধরেছি, বলেছি- আসেন এক সাথে রাজনীতি করি। অথচ আপনি আমাকে টার্গেট করেই সব কিছু বলছেন।’
ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিজের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শামীম হক বলেন, এরা দুজন আমার প্রতিনিধি, শেখ হাসিনার প্রতিনিধি। আমি তাদেরকে শোকের অনুষ্ঠান করার নির্দেশ দিয়েছি। ওরা স্কুলের ভেতরের মাঠে করবে, না বাইরের মাঠে করবে তা ওদের ব্যাপার।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. ইশতিয়াক আরিফ বলেন, উনি (শামসুলহক) যে কাজ করেছেন ভবিষ্যতে উনি আওয়ামীলীগ করতে পারবেন কীনা সেটাই এখন বিষয়।
এদিকে ২৬ আগস্ট জেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন শামসুল হক। গত সোমবার (২৯ আগস্ট) ওই বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শোক দিবস পালন উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ের উদ্যোগে আলোচনা সভা মিলাদ ও দোয়া এবং গণভোজের আয়োজন করা হয়।
ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে শামসুল হক বলেন, ওই সভাটি (২৬ আগস্ট) আয়োজন করা হয়েছিল আমাকে গালাগালি করার জন্য, জাতীয় শোক দিবস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *