এক্সক্লুসিভ ফরিদপুর সদর

পুলিশের জালে ধরা পড়লেন মোহতেশাম বাবর

কামরুজ্জামান সোহেল।
সারাদেশে আলোচিত দুইহাজার কোটি টাকা অর্থ পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর গ্রেপ্তার হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ফরিদপুর জেলা পুলিশের একটি টিম। মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে কোতয়ালী থানা পুলিশ মোহতেশাম হোসেন বাবরকে আদালতে প্রেরন করে। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়। এদিকে, মোহতেশাম হোসেন বাবরকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ফরিদপুরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন করেছে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।


মোহতেশাম হোসেন বাবরকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে তথ্য তুলে ধরেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রীর ভাই মোহতেশাম হোসেন বাবর ক্ষমতায় থাকাকালে দলীয় ক্ষমতা এবং ভাইয়ের ক্ষমতাসহ সকল ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করে ফরিদপুরে সকল ধরনের টেন্ডার থেকে কমিশন বাণিজ্য এবং চাকুরী বাণিজ্য করে দেশে বিদেশে অঢেল সম্পত্তি অর্জন করেন। ২০২০ সালে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে তার ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনাকারী হাতুরী বাহিনী, হেলমেট বাহিনী আত্মগোপনে চরে যায়। সিআইডির দায়েরকৃত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলার তদন্তে বাবরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত বাবরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী করে। গোপন সংবাদের ভিক্তিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের একটি দল সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে ফরিদপুরে নিয়ে আসা হয়। বাবরকে জিজ্ঞাসাবাদ পূর্বক তার দেওয়া তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। নতুন কোন তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অতিরিকআত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান মোহতেশাম হোসেন বাবরের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ছাড়া আর কোন মামলা নেই। বেলা তিনটার দিকে মোহতেশাম হোসেন বাবরকে কোতয়ালী থানা থেকে আদালতে নেওয়া হয়। ফরিদপুরের ১নং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (আমলী আদালত) মোঃ সফিকুল ইসলামের আদালতে তোলা হয়। বিজ্ঞ আদালত মোহতেশাম হোসেন বাবরকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২০১৯ সালে ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতা গ্রেপ্তার হন। অনেকেই ফরিদপুর ছেড়ে ান্যত্র গা ঢাকা দেন। পরবর্তীতে ২০২০সালের ২৬ জুন দুই হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচার মামলায় বেশকিছু নেতাকে আসামী করে ঢাকার সিআইডি একটি মামলা করে। সেই মামলায় ১০ জনকে আসামী করে চার্জসিট প্রদান করা হয়। চার্জসিট ভুক্ত আসামীরা হলেন , ফরিদপুর-৩ আসনের সাংসদ, সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বারবকে। এ মামলার অন্য আসামীরা হলেন, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হাসান খন্দকার লেভী, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল, সাবেক মন্ত্রীর এপিএস এএইচএম ফোয়াদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ফাইন, শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান, যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান ডেবিট, মুহাম্মদ আলী মিনার, তারিকুল ইসলাম নাসিম। এ মামলায় কয়েক আসামী বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হলেও মোহতেশাম হোসেন বাবর ছিলেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
২০২১ সালের ৩ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) উত্তম কুমার সাহা চার্জসিট ঢাকার সিএমএম আদালতে দাখিল করেন। একই বছর আদালত ১০ আসামীর বিরুদ্ধে চার্জসিট গ্রহন করে আদেশ দেন ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। পরবর্তীতে পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী করে আদালত।

ফরিদপুরে আনন্দ মিছিল
দুই হাজার কোটি টাকার অর্থ পাচার মামলায় সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপির ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবরকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ফরিদপুরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহরের আলীপুর মোড় এলাকা থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

আনন্দ মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শামীম হক, পৌর মেয়র অমিতাব বোস, শহর আওয়ামী লীগের আহবায়ক মনিরুল হাসান মিঠু, যুবলীগের আহবায়ক জিয়াউল হাসান মিঠু, শ্রমিক লীগের আহবায়ক গোলাম মোঃ নাছির, ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ রিয়ান, সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন। সমাবেশ থেকে দুর্নীতিবাজ মোহতেশাম হোসেন বাবরসহ মানি লন্ডারিং মামলার সকল আসামীদের দ্রুত বিচার কার্যকর করার দাবী জানান। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। মিছিলে আগত লোকজনের মাঝে এসময় মিষ্টি বিতরন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *