ফরিদপুরের সংবাদ

নিখোঁজ ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

শেষ পেশাগত মেডিকেল পরীক্ষা চলাকালে নিখোঁজ হওয়া ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী নয়ন চন্দ্র নাথ (২৪) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলাদায়ের করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর সদরের কৈজুরি ইউনিয়নের পশরা গ্রামে ঢাকা-বরিশাল বাইপাস সড়কের বাম পাশে দিদারুল ইসলামের করাত কলের একটি কাঠের সাথে গলায় রশি দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশটি উদ্ধার করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টা থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে যান নয়ন। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।। এই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন।
নয়ন ফেনী জেলার দাঁগনভূঞা উপজেলার আজিজ ফাজিলপুর গ্রামের মৃত দিলীপ চন্দ্র নাথের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সকলের ছোট।
নয়নের বন্ধু মো. ওয়াকিফ উল আলম জানান, বেশ কিছু দিন যাবত নয়ন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। তার ইচ্ছে ছিল একজন সার্জন হওয়ার কিন্তু ডান হাতের আঙ্গুলে সমস্যা থাকার কারনে তিনি সার্জন হতে পারবে না সম্প্রতি এটা জানার পর থেকেই মূলত নয়ন বিপর্যস্ত হয়ে পরে।
নয়ন মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের ৫১০ নম্বর কক্ষের নিবাসি ছিলেন। তবে পরীক্ষায় পড়াশুনার জন্য তিনি ১০৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন।
কলেজের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট ও নীল রঙের টি শার্ট পড়ে মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস থেকে বের হন নয়ন। যাওয়ার সময় তিনি মুঠোফোন ও মানিব্যাগ রুমেই রেখে যান।
গত ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হয় শেষ পেশাগত মেডিকেল পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় ছয়টি লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কথা। নয়ন তিনটি লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। গত বৃহস্পতিবার ছিল চতুর্থ লিখিত পরীক্ষা। সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার অন্তত সোয়া এক ঘন্টা আগে নয়ন ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে যান।
নয়নের খালতো ভাই উত্তম কুমার নাথ জানান, নয়নের এ মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ওই স্বপ্ন ছিল সার্জন হওয়া। ও বরাবরই চাপা স্বভাবের ছিলেন। মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সম্প্রতি।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এসএম খবিরুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় খবর পাই নয়নের বিষয়ে। নয়ন যে সম্প্রতি অবসাদে ভুগছিলেন তা ওর সহপাঠি কেউ আমাকে জানায়নি। তাহলে আমি ওর মানসিক অবসাদ দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারতাম। এ রকম একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এ মৃত্যুর কোন ব্যাখ্যা হতে পারে না।
ময়না তদন্ত শেষে দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নয়নের মৃতদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এসময় তার সাথে ছিলেন নয়নের ভাই সুমন চন্দ্র নাথ ও খালতো ভাই উত্তম কুমার নাথ। মেধাবী নয়নের মৃত্যুতে শনিবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সকল ক্লাস বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া আজ রবিবার সকলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কারো ব্যাচ ধারণ এবং দুপুর ১টায় কলেজ ক্যাম্পোসে শোকসভার আযোজন করা হয়েছে।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *