নগরকান্দা

নগরকান্দায় মামলা তুলে না নেওয়ায় বাদীকে প্রাননাশের হুমকির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের একটি মামলার বাদিকে মামলা তুলে নেবার জন্য প্রকাশ্যে প্রাননাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। মামলার আসামীরা আদালতে হাজিরা দিতে এসে বাদির উপর চড়াও হয়। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে প্রানে রক্ষা পান মামলার বাদী ফরহাদ মিয়া। এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে মামলার বাদি ফরহাদ মিয়া ও পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মামলা সূত্রে এবং অভিযোগে জানা গেছে, নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের দক্ষিন কাইচাইল গ্রামের ফরহাদ মিয়ার সাথে একই গ্রামের কবির হোসেন ঠান্ডু,গোলজার মিয়া গংদের সাথে স্থানীয় গ্রাম্য রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে প্রায় সময়ই হামলার শিকার হন ফরহাদ মিয়া, এনামুল হাসান, হানিফ গংয়েরা। তাছাড়া বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে । এ নিয়ে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। গ্রাম্য বিরোধের জেরে ২০১৯ সালের ১০ আগষ্ট কবির হোসেন ঠান্ডু, রায়হান মিয়ার নেতৃত্বে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফরহাদের চাচা এনামুল হাসান, হানিফ মিয়া হৃদয়ের উপর হামলা করে। এসময় হামলাকারীরা এনামুল হাসান ও হানিফকে কুপিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করে কোরবানীর গরু ক্রয়ের জন্য থাকা ৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা বসত বাড়ী ভাংচুরের পাশাপাশি বাড়ী থেকে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর ফরহাদ মিয়া বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামী করে ফরিদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর আসামীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করা হয় ফরহাদের উপর। কিন্তু মামলা তুলে না নেওয়ায় আসামীরা ফরহাদ সহ তার স্বজনদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে। ফলে একপর্যায়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন ফরহাদ ও তার পক্ষের বেশকিছু লোকজন। এ সুযোগে আসামীরা বিভিন্ন সময় বাড়ীর মালামাল লুটপাট, গাছ কেটে নেওয়া ও জমির ফসল জোরপূর্বক কেটে নেয়। গত ৫ জুন ফরিদপুর আদালতে ফরহাদ মিয়ার মামলার হাজির দিতে এসে আসামী গোলজার মিয়া, আশরাফ মিয়া, আসমা বেগম, বিপ্লবসহ কয়েকজন চড়াও হয় বাদি ফরহাদ মিয়ার উপর। মামলা তুলে না নিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। একই সাথে আসামীরা ফরহাদের উপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে আসামীরা চলে যেতে বাধ্য হয়। এ ঘটনার পর ফরহাদ মিয়া ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আসামীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করে।
ফরহাদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আসামীরা এলাকায় বেশ প্রভাবশালী। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা বিভিন্ন সময় আমাদের উপর নির্যাতন-জুলুম চালিয়ে আসছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের পক্ষের কয়েকজনকে এলাকা ছাড়া করেছে। তারপর তারা বাড়ীতে হামলা করে ভাংচুর ও মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এলাকায় জোড়া খুনের ঘটনাকে পুজি করে তারা নিরিহ ব্যক্তিদের নামে মামলা করে তাদের বাড়ী থেকে উচ্ছেদও করেছে। বর্তমানে তারা এলাকায় নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলেও আসামীরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান কবির হোসেন ঠান্ডু জানান, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। খুনের মামলা থেকে রেহাই পেতে তারা এসব নাটক সাজাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *