বোয়ালমারী স্বাস্থ্য

দেড় বছর কর্মস্থলে নেই, বেতন নিচ্ছেন নিয়মিত

বোয়ালমারী প্রতিনিধি #
দেড় বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী এন্ড অবস্) ডা. মাতুয়ারা শারমীন। যে কারণে ভেঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্য সেবা, বঞ্চিত হচ্ছে স্ত্রীরোগে সেবা প্রত্যাশী লক্ষ্যাধিক নারী। জানা যায়, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে যোগদান করেন ডা. মাতুয়ারা শারমীন। যোগদানের পর থেকে তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত না হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্থ অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশে দিনের পর দিন প্রশিক্ষণের নামে ঢাকায় অবস্থান করেছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মোতাবেক তিনি দেড় বছরের মধ্যে ১৭৬ দিন বিভিন্ন প্রশিক্ষণে রয়েছেন। বাকী দিনগুলি তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও চলছে বেতন ভাতা। সর্বশেষ আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত ‘ট্রেনিং ফর ডক্তর অন ইনজুরি প্রিভেনশন এন্ড ইমার্জেন্সি মেডিকেল কেয়ার’ শীর্ষক সার্জারী ইউনিট, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ দিনের ট্রেনিংয়ে রয়েছেন এই চিকিৎসক।
পরিবার পরিকল্পা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত দেড় বছরে (জানুয়ারী-২০১৮ থেকে জুন-২০১৯) বোয়ালমারী উপজেলায় ৩,৯৫৩জন প্রসূতি সন্তান প্রসব করেছে। যার অধিকাংশ নবজাতক আলোর মুখ দেখেছে স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিকে অস্ত্রোপচের মাধ্যমে। এই সব অস্ত্রোপচারের সাথে যুক্ত রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. তাপস বিশ্বাষ। নাম প্রকাশের অনুচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান বোয়ালমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক যন্ত্রপাতি সর্জিত একটি অপারেশান থিয়েটার থাকলেও গাইনী বিভাগের চিকিৎসক অনুপস্থিতির করনে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। মূলত ডা. তাপস বিশ্বাষ তার আর্থিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে গাইনী বিভাগের ঐ চিকিৎসকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে আসছে।
অনৈতিক সুবিধাভোগী ডা. মাতুয়োরা শারমীনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কর্মস্থলে অনুস্থতি নই। আমাকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দুই মাস আমি ঐচ্ছিক ছুটি কাটিয়েছি।’
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের লাইন ডাইরেক্টর ডা. নূর মোহাম্মদের নিকট একই ব্যক্তি কী করে মাসের পর মাস প্রশিক্ষণে থাকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণের চাহিদাপত্র পাঠাই। সংশ্লিষ্ট দপ্তর যার নাম আমাদের দেন, আমরা তাকে দিয়ে প্রশিক্ষণ করাই।’
কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে ওই ডাক্তারের সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলনের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন
ডা. মুহাঃ এনামুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. তাপস বিশ্বাস দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
অন্যদিকে ওই হাসপাতালের দুইজন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক অফিস ম্যানেজ করে একই পন্থায় সরকারি বেতন ভাতা তুলে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা হলেন টাংগাইল জেলার বেগম শেফালী সামাদ ও হোসনেয়ারা বেগম। এ বছরের ২৮ এপ্রিল কমপ্লেক্সে যোগদান করে এরই মধ্যে এক সাথে তিনবারে ১২ দিনের ছুটি নিয়েছে তারা। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় উপজেলা স্বাস্থ্য পরির্দশক মো. আবু সাঈদ মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা নিয়ে তাদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ বলেন, আমি কোন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করি নাই। তারা নিয়মিতই কর্মস্থলে উপস্থিত থাকে। হোসনেয়ার বেগম ও শেফালী সামাদের মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *