নগরকান্দা

তালমা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক।
ফরিদপুরে তালমা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন। পুলিশ লাঠিপেটা ও ফাাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর এপিএস শফিউদ্দিনের নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের রসুলপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ নভেম্বর তালমা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রণজিৎ মন্ডল। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ভাঙ্গা কে এম কলেজের সাবেক শিক্ষক। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য কামাল হোসেন মিয়া।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তালমা ইউনিয়নের রসুলপুর বাজারে বিদ্রোহী প্রার্থী কামালের একটি নির্বাচনী কার্যালয় রয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই কার্যালয়ে বসে কামাল তার সমর্থকদের সাথে মত বিনিময় করছিলেন।
ওই সময় সাজেদার এপিএস মো. শফিউদ্দিন চৌধুরী, তলমা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ খান এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী রণজিৎ মন্ডল নেতৃত্বে কয়েকশত লোক মিছিল করে ওই নির্বাচনী কার্যালয়ের দিকে এগুতে থাকে। ওই সময় আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে কামালের নির্বাচনী কার্যালয়ে ইট ছোড়া হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে সর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এর মধ্যেই আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ওই কার্যালয়ে হামলা করে এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল হোসেন মিয়া জানায়, সাজেদা চৌধুরীর এপিএস মো. শফিউদ্দিন চৌধুরী, তলমা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ খান এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী রণজিৎ মন্ডল নেতৃত্বে কয়েকশত লোক মিছিল করে নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ হামলায় তার ১৫ জন সদস্য আহত হয়েছে। এর মধ্যে ছয় জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী রণজিৎ মন্ডল বলেন, আওয়ামী লীগের একটি মিছিল রসুলপুর বাজার এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় পুলিশ আওয়ামী লীগ কর্মীদের লাটিপেটা করে ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে ।
এ ব্যাপারে এপিএস শফিউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে কখনো বন্ধটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
ঘটনা সম্পর্কে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে সাহাদাব আকবর চৌধুরী বলেন, তিনি ওই সময় সালথার মাঝারদিয়া এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশে ছিলেন। তালমার রসুলপুরে কি ঘটেছে তা তার জানা নেই। তিনি বলেন, মো. শফিউদ্দিন চৌধুরী সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর এপিএস । তার পক্ষে হামলা চালনো সম্ভব নয়।
ফরিদপুরের সহকারি পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) সুমিনূর রহমান বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীর মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মিছিল তেকে হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে পুলিশের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, পুলিশ লাঠিপেটা ও সর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে, তাদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *