অপরাধ ফরিদপুর সদর

ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ১৬ জনের নামে থানায় মামলা, আটক-৪

বিশেষ প্রতিবেদক
ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদের গ্রুপের উপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ রিয়ানকে প্রধান আসামী করে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা হয়েছে। রবিবার রাতে হামলায় আহত ছাত্রলীগ নেতা, ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবি এম ফয়সাল বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ রিয়ান, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ তামীম আফনানসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১৫/২০ জনকে আসামী করা হয়। এ মামলায় পুলিশ রবিবার রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান মিজান, শেখ তামীম আফনান, মাহামুদুল হাসান সাব্বির ও মোস্তাফিজুর রহমান আওরঙ্গকে আটক করেছে। আটককৃতদের সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আব্দুল গাফফার বলেন, হামলার ঘটনায় থানায় মামলার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ৪ জনকে আটক করা হয়। অন্যান্য আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে।
ছাত্রলীগের একাধিক নেতা-কর্মীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি ছাত্রলীগের কর্মী সবুজ মোল্লা হত্যাকান্ডের পর ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগ দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। জেলার সভাপতি তামজিদুল রশিদ রিয়ান এক গ্রুপের নেতৃত্ব দেন এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেন সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ। সবুজ হত্যাকান্ডের বিচারের দাবীতে শহরে একাধিক বিক্ষোভ-মিছিল ও মানববন্ধন করে ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। সবুজ হত্যাকান্ডের সাথে সভাপতি তামজিদুল রশিদ রিয়ানের নাম উঠে আসলে সে গা ঢাকা দেয়। পরবর্তীতের রিয়ান হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে ফরিদপুরে আসলে উভয় গ্রুপের মাঝে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে ১১ সেপ্টেম্বর রবিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে শহরের রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শহরস্থ ক্যাম্পাসের রুকসু ভবনে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদের সমর্থিত কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছিল। এসময় তামজিদুল রশিদ রিয়ানের সমর্থক হিসাবে পরিচিত শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে রুকসু ভবনে ঢুকে। এসময় তারা সেখানে লোহাড় রড, হাতুরী দিয়ে এলোপাথারী ভাবে কয়েকজনকে পেটাতে থাকে। খবর পেয়ে সাধারণ সম্পাদক ফাহিমের নেতৃত্বে বেশকিছু নেতা-কর্মী রুকসু ভবনে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হামলায় মাথা ফেটে মারাত্বক ভাবে আহত হয় বাপ্পি ও ফয়সাল নামের দুই ছাত্রলীগ কর্মী। হামলায় আহত হন আরো ৬ জন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ রিয়ান জানান, শহর ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক সজিব আহমেদ রুকসু ভবনে তার সমর্থকদের নিয়ে বসে ছিল। এসময় সেখানে শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান গেলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় মিজানের এক সমর্থককে মারপিট করা হলে সংঘর্ষের ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে শুনেছি।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ বলেন, সভাপতি রিয়ানের নির্দেশে রুকসু ভবনে বসে থাকা নেতা-কর্মীদের উপর হামলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *