নগরকান্দা

চিরবিদায় বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের

জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ।

সাজেদা চৌধুরী বেশ কিছুদিন ধরেই ডিমেনসিয়া রোগে ভুগছিলেন। তিনি নিকটাত্মীয়সহ পরিচিত কাউকেই চিনতে পারতেন না। উচ্চ রক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত সমস্যা নিয়ে ২৮ আগস্ট সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক জানিয়েছেন। এছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ-সদস্যসহ দলীয় নেতারা শোক জানিয়েছেন। এছাড়াও প্রবীণ এ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মরদেহ রাতে সিএমএইচেই রাখা হবে। আজ বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনীতিবিদ সাজেদা চৌধুরীর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ জোহর তার নির্বাচনি এলাকা নগরকান্দায় হবে দ্বিতীয় জানাজা। বাদ আসর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে লাশ দাফন করা হবে।

ফরিদপুর ২ আসনের সংসদ-সদস্য সাজেদা চৌধুরী ১৯৩৫ সালের ৮ মে মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মাতা সৈয়দা আছিয়া খাতুন। তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার স্বামী রাজনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী গোলাম আকবর চৌধুরী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগে বিপর্যয় নেমে আসে। এ সংকটময় মুহূর্তে দলকে সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন সাজেদা চৌধুরী। ১৯৭৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯২ থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এর আগে ১৯৬৯ থেকে ৭৫ পর্যন্ত সাজেদা চৌধুরী মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সাজেদা চৌধুরী একাধিবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর সাজেদা চৌধুরীকে জাতীয় সংসদের উপনেতা করা হয়। এরপর দশম ও একাদশ সংসদেও তিনি উপনেতার দায়িত্ব পান। তিনি ১৯৭৪ সালে গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো ফেলোশিপপ্রাপ্ত হন। একই সময়ে তিনি বাংলাদেশ গার্ল-গাইড অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার হিসাবে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক সনদ সিলভার এলিফ্যান্ট পদক লাভ করেন। ২০০০ সালে তিনি আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক ওমেন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ।

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী

জন্ম : ৮ মে ১৯৩৫ * মৃত্যু : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *