ফরিদপুর সদর

চলে গেলেন রাজনীতির মহানায়ক

কামরুজ্জামান সোহেল।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে থেকে ৫ বারের নির্বাচিত এমপি, সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার বেলা ১টার দিকে ঢাকার এভার কেয়ার (সাবেক এ্যাপেলো হাসপাতাল) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি চার কন্যা, স্ত্রীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মৃত্যুর খবর তার নিজ এলাকা ফরিদপুরে পৌছালে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বুধবার বিকেলে ঢাকার গুনশান আজাদ মসজিদে মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার বিকাল তিনটায় ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। পরে তাকে শহরের নিজ বাড়ীর পারিবারিক কবরস্তানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের কন্যা নায়াব ইউসুফ আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ফরিদপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের কারনে কামাল ইউসুফের দাফন শুক্রবার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা।
গত কয়েকদিন ধরে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ নানা রোগে অসুস্থ্য হয়ে ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরে তার করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসে। হঠাৎ করে বেশী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়।
চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফরিদপুর-১ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোদাররেস আলী ইছা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুল ইসলাম লিটন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ রিংকু, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ সভাপতি মাহাবুবুল ইসলাম ভুইয়া পিংকু, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক একেএম কিবরিয়া স্বপন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল।
চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ১৯৭৯ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তে যোগ দেন। ওই বছরে তিনি জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে বিচারপতি আব্দুস সাত্তার সরকারের মন্ত্রী সভায় তিনি মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেন। ১৯৯১ সালে তিনি বিপুল ভোটে ফের ফরিদপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হলে বেগম খালেদা জিয়া সরকার গঠন করলে তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় না আসলেও চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে পুনরায় তিনি বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই সময়ে তিনি খাদ্য ও দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাননি। সেই সময় জোটের মনোনয়ন পান জামাতের আলী আহসান মোঃ মুজাহিদ। চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে অংশ নিয়ে অল্প ভোটে হেরে যান। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা কামাল ইউসুফ সর্বশেষ দলটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন।
চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ফরিদপুর জেলার বাঙালী জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতামহ ছিলেন জমিদার চৌধুরী ময়েজ উদ্দিন বিশ^াস। তার বাবা চৌধুরী ইউসুফ আলী মোহন মিয়া ব্রিটিশ শাসনামলে একজন বিশিষ্ট মুসলিম লীগ নেতা ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *