ফরিদপুর সদর

এটি পুকুর নয়, যেন ময়লার ভাগাড় আর মশার ডিপো

কামরুজ্জামান সোহেল।
ফরিদপুর পৌরসভার গোয়ালচামস্থ হোটেল লাক্সারীর পিছনে একটি পুকুর নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে আবর্জনা ফেলার কারনে পুকুরটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ময়লার স্তুপ জমে পুকুরের পানি দুর্গন্ধ হবার কারনে তা এলাকার পরিবেশ মারাত্বক ভাবে দূর্ষিত হচ্ছে। পুকুরটির আশে পাশে থাকা প্রায় ৩০টি পরিবার ও বেশকিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লোকজন পুকুরে ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনার পচা দূগন্ধে সেখানে বসবাস করতে সমস্যার মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক এলাকার মধ্যে অবস্থিত এ পুকুরটিতে হোটেলের নানা আবর্জনা ফেলার কারনে পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেখানে কেউ আর গোসল করতে পারছেনা। এমনকি এ পুকুরের পানি নষ্ট দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় আশ পাশের মানুষের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ময়লা-আবর্জনাযুক্ত এ পুকুরটির কারনে ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগ জীবানু। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার পুকুরের মালিক ও পৌরকতৃপক্ষকে বললেও ময়লা পরিস্কার করার কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষোভ বেড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ইফতেখার আহমেদ ইফতু গংদের পারিবারিক এ পুকুর থেকে এলাকার শত শত মানুষ গোসলসহ পানি নিয়ে রান্নার কাজ করতো। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে এ পুকুরটিতে হোটেলের ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারনে পুকুরটি এখন এলাকার মানুষের মাথা ব্যথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলবেগ রেস্টুরেন্ট নামের একটি হোটেলের সমস্ত ময়লা ফেলার কারনে এ পুকুরটিতে এখন আর এলাকার মানুষ গোসল করতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে ময়লা পচে দূর্গন্ধ হয়ে পড়ায় আশে পাশের মানুষের বসবাস বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারনে অনেক সময় পুকুরের ময়লা-আবর্জনা আশ পাশের বাসা বাড়ীতে প্রবেশ করে। এছাড়া হোটেল আলবেগ আবাসিকএর সেফট্রি ট্যাংকের ময়লা পুকুরের পানির সংগে মিসে পরিবেশ দুষণ হচ্ছে ফলে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয়রা। এ পুকুরটির কারনে মশার উপদ্রপ বেড়েছে এলাকায়। বর্তমানে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত এ পুকুরটি মশার ডিপো হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার পুকুরের মালিককে পুকুরটি পরিস্কার করার কথা বললেও তারা কোন প্রদক্ষেপ নেননি। ফরিদপুর পৌরসভার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে এ বিষয়ে জানানো হলেও তারা পুকুরটি পরিস্কার করার ব্যাপারে কোন কাজ করেনি। পৌর এলাকার মধ্যে আবর্জনাযুক্ত পুকুর থাকলে সেটি পরিস্কার করার কথা রয়েছে পুকুরের মালিকের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ পুকুরটি পরিস্কার না করায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ময়লা পচার দূর্গন্ধ এবং মশার হাত থেকে বাঁচতে এ পুকুরটি পরিস্কার করে তা মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করার দাবী স্থানীয় এলাকাবাসীর। পুকুরটি পরিস্কারের বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু বলেন, পুকুর মালিককে নিজেদের উদ্যোগে পুকুরটি পরিস্কার করার কথা বলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *