ফরিদপুর সদর

ঈশান গোপালপুরে বিল তুলে নেবার পর প্রকল্পের কাজ শুরু

বিশেষ প্রতিবেদক।
ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে ২০২০-২১ অর্থ বছরের দুটি প্রকল্পের কোন কাজ না করে বিল উত্তোলনের ঘটনার সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হবার পর বাধ্য হয়ে কাজ শুরু করেছেন প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট দুই ইউপি সদস্য। ২১ মে শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকজন লেবার কালভার্ট তৈরীর কাজ করছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, কাজ না করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিল উত্তোলন করার বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানাগেছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ২০২০-২১ অর্থ বছরের দুটি প্রকল্পে কোন কাজ না করে বিল উত্তোলন করে নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে ছিলেন তিন ইউপি সদস্য। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী। ইউনিয়নের লক্ষীদাসের হাট থেকে বিষ্ণুপুর মাদ্রাসা পর্যন্ত ফ্লাট সলিং রাস্তা ও মেরামত এবং কালভার্ট পুনঃ নির্মানের কোন কাজ না করেই ১ লাখ টাকার বিল ঈদের দুইদিন আগে তুলে নেওয়া হয়। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা ও কালভার্ট পূনঃ নির্মানের কোন কাজই করা হয়নি। অথচ তার বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। এ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রেজাউল করিম বাচ্চু ও লিটন বিশ^াস সেকেন সমস্ত টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, কাজ না করে বিল উত্তোলনের বিষয়টি সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে সত্যতা পাবার পর সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের কাজ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকাল থেকে কয়েকজন লেবার দিয়ে কালভার্ট নির্মানের কাজ শুরু করা হয়। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের আগে কালর্ভাট নির্মান শেষ হয়েছে মর্মে বিল তুলে নেওয়া হলেও সেখানে কালভার্ট নিমানের জন্য ইট বালু এনে রাখা হয়েছে। কয়েকটি শ্রমিক সেখানে কাজ শুরু করেছে। এদিকে, আরেকটি প্রকল্পের কাজ জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় শুরু হয়নি। তবে কয়েকদিনের মধ্যে সেই কাজটিও করে দেবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য। বিল তুলে নেবার পর কাজ করার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য কোন কথা বলতে রাজি হননি।
ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মজনু বলেন, কাজ না করে পুরো টাকাটাই আত্মসাত করার পাঁয়তারা করেছিলেন তারা। বিষয়টি জানার পর স্থানীয়দের অভিযোগের ভিক্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কালভার্ট নির্মানের নির্দেশ দেবার পর তারা কাজ শুরু করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *