ফরিদপুর সদর

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়িকে পিটিয়ে আহত

বিশেষ প্রতিবেদক।
ফরিদপুর শহরের সরকারি তিতুমীর বাজার (নিউ মার্কেট)-এর আহবায়ক কমিটির সহ-সভাপতি, ব্যবসায়িক নেতা মোঃ গোলাম নবী (৪৯) কে সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। সে বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ব্যবসায়িদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবী জানিয়েছে ব্যাবসায়ি নেতারা।
অভিযোগে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টায় নিউ মার্কেটের মানিক ষ্টোর ও রিমন ষ্টোরে এক তরুনী ও তার অভিভাবক শপিং করতে গেলে তরুনীর সাথে অসৌজন্যমূলক (ইভটিজিং) ঘটানো হয়। মেয়েটি প্রতিবাদ করলে তাকে অশ্লীল গালিগালাজ করা হয়। পরে তারা মার্কেট কমিটির নেতা আহবায়ক কমিটির সহ-সভাপতি আলীপুর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোঃ গোলাম নবীকে বিষয়টি অবগত করে। তাৎক্ষণিক ভাবে ব্যবসায়ীক নেতা গোলাম নবী ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়টি জানতে চান। এ সময় তারা উপর লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে এলোপাথারী পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
হাসপাতালে ভর্তি গোলাম নবী বলেন, আমি মানিক ষ্টোর ও রিমন ষ্টোরে গিয়ে ইভটিজিং বিষয়ে জানতে চাইলে, মানিক ষ্টোরের মালিক মীর আব্দুর রহিম বাদলের ভাই মানিক, দীপু, টিপু, বোন জামাই রিমন ও রিমন ষ্টোরের মালিক কর্মচারীসহ আমার উপর বর্বর হামলা করে। এক পর্যায়ে আমি জীবন বাঁচাতে মার্কেট থেকে দৌড়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় গিয়ে পড়ে যাই। থানা পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এই ঘটনার নেপথ্যে মীর আব্দুর রহিম বাদলের মদদ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওরা ব্যবসার অন্তরালে মাদক, ইয়াবা ব্যবসা করে। সেসব বিষয়েও আমরা বার বার প্রতিবাদ করেছি। ওরা আমার পুত্র আব্দুল আলী ইমনকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছে।
এই ঘটনার বিষয়ে সরকারি তিতুমীর বাজার নিউ মার্কেট আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান বাবু জানান, ঘটনাটি জঘন্য এবং নিন্দনীয়। আমরা আমাদের ব্যবসায়ীক কমিটি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের শাস্তি দাবী করছি। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত দোকান ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে এই রকম আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে। সেসব বিষয়ে সালিস, বৈঠক অনেক হয়েছে। একবার পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানাও দিয়েছে। গত বছর রিমন ষ্টোর এ ধরনের ইভটিজিং ঘটনা ঘটালে ফরিদপুরের র‌্যাব-৮ তাদের আটক করে তখন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়া তরুনী জানান, তাকে নানা ভাবে অশ্লীল কথা বলে উত্যক্ত করা হয়। প্রতিবাদ করলে আজেবাজে কথা বলা হয়। এ বিষয়ে ঘটনাটি সে মার্কেটের নেতা গোলাম নবীকে জানান।
অভিযোগ বিষয়ে মীর আব্দুর রহিমের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। ঘটনাটি অনাকাঙ্খীত, দুঃখজনক। এমন একটি হামলার ঘটনায় সত্যি লজ্জা পাচ্ছি। ব্যবসার অন্তরালে মাদক বিক্রির অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, এসব কথা সত্য নয়। তবে এই ঘটনার সাথে আমার পরিবারের লোক জড়িত থাকলে অবশ্যই আমিও এর শাস্তি চাই। এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *